বাজেট ঘাটতির ক্ষেত্রে আগামী বছর জার্মানির চেয়ে ভালো অবস্থানে উঠে আসতে পারে স্পেন। দুই দশক পর প্রথমবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে। ব্যাংক অব স্পেনের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর আদায় বাড়ায় দেশটি দ্রুত বাজেট ঘাটতি কমাতে পেরেছে। খবর এফটি।
স্পেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, চলতি বছর স্পেনের বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশে। ২০২৬ সালে এটি কমে নেমে আসবে ২ দশমিক ৩ শতাংশে। অন্যদিকে জার্মান কাউন্সিল অব ইকোনমিক এক্সপার্টস জানিয়েছে, চলতি বছর জার্মানির বাজেট ঘাটতি হবে জিডিপির ২ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা বেড়ে হবে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। পরবর্তী বছরগুলোয় ফ্রান্সে ঘাটতি আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
ইউরোজোন ঋণ সংকটের প্রায় ১৭ বছর পর এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। একসময় দুর্বল আর্থিক অবস্থার কারণে পর্তুগাল, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, গ্রিস ও স্পেনকে বিশ্লেষকরা সংক্ষেপে ‘পিগস’ ডাকতেন। শব্দটি পাঁচ দেশের নামের প্রথম অক্ষর থেকে এসেছে এবং এর দ্বারা অর্থনীতিতে তখনকার উচ্চ ঋণ ও বাজেট ঘাটতির সংকট বোঝানো হতো। বর্তমানে এসব দেশ বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো বড় অর্থনীতির তুলনায় ভালো অবস্থায় রয়েছে।
স্পেনের উন্নত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে সরকারি ঋণপত্রেও। দেশটির ১০ বছর মেয়াদি বন্ডে জার্মান বন্ডের তুলনায় অতিরিক্ত সুদ এখন প্রায় দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট, সংকটকালে যা ছিল ৬ শতাংশীয় পয়েন্টের বেশি। বর্তমানে ফ্রান্সের তুলনায় কম সুদহারে ঋণ পাওয়া যাচ্ছে স্পেনে।
২০০৭ সালে স্পেনের সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল জিডিপির ৩৫ শতাংশ। সংকটকালে তা বেড়ে ১০০ শতাংশ ছাড়ায়। বর্তমানে আইএমএফের হিসাবে দেশের মোট সরকারি ঋণ জিডিপির ১০০ দশমিক ৪ শতাংশ। জার্মানির ঋণহার ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ হলেও দেশটির ব্যয় বৃদ্ধি, অবকাঠামো সংকট ও প্রতিরক্ষা চাহিদা বাড়ায় ঘাটতি বড় হচ্ছে।
ইউরোপে দ্রুত সম্প্রসারিত বড় অর্থনীতিগুলোর অন্যতম স্পেন। ২০২২ সালের শুরু থেকে প্রতিটি প্রান্তিকে দেশটির জিডিপি গড়ে বেড়েছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময় জার্মানির গড় প্রান্তিক প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে, ২০২৬ সালে স্পেনের প্রবৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে ২ শতাংশে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের থেকে অল্প কম।
পান্থেয়ন ম্যাক্রো ইকোনমিকসের বিশ্লেষক মেলানি ডেবোনো বলেন, ‘জার্মানিতে নতুন প্রকল্প ও খাতে অর্থ বিনিয়োগ কমে গেছে। বিপরীতে স্পেনে বিনিয়োগ বাড়ছে। এতে দেশটির জিডিপি শক্ত ভিত্তি পাচ্ছে।’
অভিবাসন, পর্যটন, কম জ্বালানি ব্যয় ও ইইউ তহবিলের সরকারি ব্যয় স্পেনের প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। সরকার আশা করছে, এ বছরই ২০০৭ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রারম্ভিক উদ্বৃত্ত অর্জন করবে।
স্পেনের ঘাটতি কমাতে রাজনৈতিক অচলাবস্থাও ভূমিকা রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নতুন বাজেট পাশ করাতে পারেননি। ফলে ২০২৩ সালের ঘাটতি নিয়ন্ত্রিত বাজেটই কার্যকর রয়েছে, যা বড় নতুন ব্যয় ঠেকিয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদ মিগেল সেবাস্তিয়ান সতর্ক করে বলেন, ‘স্পেনের ঋণ জিডিপি অনুপাত এখনো বেশি। কোনো মন্দা দেখা দিলে নীতিগত পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে।’